বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণে গরীব অসহায় আশ্রয়হীন পেল নতুন ঠিকানা.. তাছলিমা শিরিন সহকারী কমিশনার ভূমি

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ২১৪ বার দেখেছে
দৈনিক দেশ প্রতিদিন
দৈনিক দেশ প্রতিদিন
সম্প্রতি দৈনিক দেশ প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জেএ যাদুর বিশেষ সাক্ষাৎকারে অতিথি হিসেবে মানিকগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছলিমা শিরিন বলেন.. এই যে আপনারা ফেসবুক এবং বেশ কিছু সংবাদপত্রের সৌজন্যে কয়েকদিন ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য তৈরি ঘরে নাকি দুর্নীতি হয়েছে এবং তাই সংশ্লিষ্ট অফিসারদের চোর বলে আখ্যায়িত করছেন সেটা কি জেনে বুঝে করছেন?
কতটুকু এ বিষয়ে জেনেছেন নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে ও বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে?
আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাই সারাদেশে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩৮০ টি ঘর নির্মাণ হয়েছে এই কয়েক মাসে। উদ্দেশ্য ছিল গরীব অসহায় আশ্রয়হীন মানুষকে পরিচয় দেওয়া। ২ শতক জমি নিজের নামে লিখে দেওয়া হয়েছে, সাথে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা খরচ করে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে ২ রুম, কিচেন রুম, ১ টি টয়লেট, বারান্দা বিশিষ্ট ইটের বাড়ি। এতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে সকল জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ। কতটা দিন রাত, শ্রম এই ঘরের পেছনে গিয়েছে তা যদি জানতেন! কতটা শ্রম ও সময় দিয়েছেন আমার উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বাংলাদেশের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার এবং এসি ল্যান্ডরা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শুরু থেকেই এই প্রকল্পের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। কখনো খোঁজ নিয়েছেন প্রতিজনকে ২ শতক করে জমি দিলে মোট কত একর জমি দেওয়া হলো সারা বাংলাদেশে? এই যে এতো এতো একর খাস জমি কিভাবে উদ্ধার করে তা ঘর করার উপযোগী করে তৈরি করা হলো অল্প সময়ের মধ্যে তা কখনো ভেবে দেখেছেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার কারণে শুরু থেকেই কোনো কিছুতে ছাড় দেই নি আমরা। কখনো কখনো পাশের বাড়ির দখলদার জমি ছাড়তে চায়নি , অনেক প্রতিবেশী চায়নি তার পাশে গরীব মানুষ আসুক। অনেকে ষড়যন্ত্র করেছে , কেউ আবার ধনী হয়েও ঘরের আবেদন করেছে। এমন শত বাধা ডিঙিয়ে জমি উদ্ধার থেকে ঘর নির্মাণ তাও অল্প দিনে অল্প খরচে। আপনাদের আরো জানাই যে একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে শুরু করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সারাদিন, ছুটির দিন তার রুটিন ওয়ার্ক করেও শেষ করতে পারে না। খোঁজ নিয়ে দেখেছেন কেন তাদের অফিসে রাত ৭/৮ টা পর্যন্তও আলো জ্বলে? কেন তাদের অফিস শুক্র শনিবারও খোলা থাকে বেশিরভাগ সময়? উদ্দেশ্য একটাই জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া। তাদের কি পরিবার নেই, বাচ্চা কাচ্চা নেই? এই প্রকল্পের শুরু থেকে উপজেলা, জেলার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সম্মানিত জনপ্রতিনিধিগণও যুক্ত ছিলেন। তারা প্রত্যক্ষ করেছেন কতটা ডেডিকেশন ও শ্রম দিতে হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। আপনারা কোনোদিনও জানবেন না যে কতদিন ঠিক সময়ে লাঞ্চ হয় নি এই কাজটি সুচারু ভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে শেষ করতে। কোনোদিন দুপুরের খাবার খেতে হয়েছে সন্ধ্যায়। সব কিছুর মূল উদ্দেশ্য একটাই ছিল ভালভাবে নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। প্রশাসন ক্যাডার না বলতে জানেন না। রাষ্ট্র ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখনই কোনো দায়িত্ব দিয়েছেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা এই ক্যাডারের ধর্ম। ডেঙ্গু, করোনা সহ অন্যান্য কারণে মাঠ প্রশাসনে কাজ করা কত জন অফিসার শেষ ৪ বছরে কতটি ঈদ তারা পরিবারের সাথে করতে পেরেছে তা একবার খোঁজ নিবেন যদি সম্ভব হয়। আমাদের ইচ্ছে করে না পরিবারের সাথে ঈদের দিনটি কাটাতে? আমার অভিজ্ঞতা বলি একটি, গত ঈদের আগের দিন। সন্ধ্যার সময়ে রওনা হয়েছি ঘর দেখতে, কতটুকু কাজ হয়েছে, কিভাবে হচ্ছে তা দেখতে। ঈদের চাঁদ যখন ওঠে তখনও আমি ছিলাম এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের কাজের স্পটে। ঈদের দ্বিতীয় দিনও সেখানে যেতে হয়েছে। ঈদের আনন্দ স্পর্শ করার সুযোগ হয় নি। এতো কিছুর পরও আপনারা কি বলবেন?
বলবেন জনগণের টাকায় বেতন হয়, তাই সব কিছু আমাদের জন্য জায়েজ, আমরা চাকর তাই তো? কেন ভাই আপনারা কি আমাদের কিনে নিয়েছেন? না জেনে দুর্নীতিবাজ, চোর বলার অধিকার, সাহস কে দিয়েছে আপনাদের? ফ্রিতে বসে বসে বেতন নেই? দিনশেষে আমি জনগণ না? আমি ট্যাক্স দেই না, ইনকাম ট্যাক্স দেই না?
অবশ্যই কেউ সমালোচনার ঊর্ধে না, আমরাও না। তাই ব্যর্থতার সুক্ষ দায় যেমন নিবো তেমনি সফলতার বিশাল গল্পগাঁথা নিয়ে গর্বও করবো। অল্প সময়ে, মাত্র ১ লক্ষ ৭১ হাজারে লক্ষাধিক ঘর নির্মাণ ও জনগণের হাতে উঠিয়ে দেওয়া পৃথিবীতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। প্রশংসিত হয়েছে সারা বিশ্বে। পত্রিকা ও ফেসবুকে যে ফাটল বা আংশিক ভেঙে পড়া ঘরগুলো দেখছেন তা যদি খেয়াল করেন একটু নিরপেক্ষতা ও বুদ্ধিমতা খাটিয়ে তাহলে বুঝতে পারবেন ঘুরে ফিরে ২/৩ টি জেলার কয়েকটি ঘর, একই ঘর বিভিন্ন এঙ্গেলে প্রচার হওয়া, এবং যার সংখ্যা খুবই কম। যা শতকরায় রুপান্তরিত করলে ০.০২৫% এরও কম হতে পারে। এবং সেগুলোও ইতোমধ্যে সংস্কার করা হয়েছ সুন্দরভাবে। একটি বার ভেবেও দেখলেন না যে এ বছর আবহাওয়া কতটা বৈরি এখন পর্যন্ত , বর্ষায় এমন অল্প কিছু ঘরের কিছু ক্ষতি হয়েছে। কতটি ঘরে পূর্ণিমার আলোর পাশাপাশি বিদ্যুতের আলো, সুখের আলো পড়েছে একবার খোঁজ নিন। তথ্য প্রমাণ ছাড়া শুধু মাত্র কিছু ষড়যন্ত্রকারীদের জালে ফেঁসে কাউকে দুর্নীতিবাজ, চোর আখ্যা দেওয়ার আগে ভাবুন। শুভ বুদ্ধির উদয় হউক। যাই হউক। আজ যে বিদ্যুতের আলোয় ইটের ঘরে, নিজের ঘরে যে সন্তান পড়াশোনা করছে কিংবা যে মা সেলাই মেশিনে কাজ করছে তাতে আমাদের একটু হলেও অবদান আছে। স্বস্তির নিশ্বাস এখানেই। ভাল থাকুন। লেখাটি আমার ব্যাসমেট মিজান রহমানের ছবি গুলো সংগৃহীত। আমার চোখে দেখা সফল জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ স্যার সাদা মনের পরিশ্রমি এক জন মানুষ, দিন রাত করোনা প্রতিরোধ সহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিদর্শ ন করে যাচ্ছেন এ জন্য সকলে দোয়া করবেন।

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই রকম আরো সংবাদ
দৈনিক দেশ টিভি

দেশ প্রতিদিন টিভি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন

দৈনিক দেশ প্রতিদিন